Header Ads Widget

আমি তখন সাত মাসে%র প্রেগন্যা%ন্ট

 



Voice play 


 আমি তখন সাত মাসের প্রেগন্যান্ট,একদিন ওয়ারড্রব এর ড্রয়ার গোছাতে গিয়ে বেশ কিছু চিরকুট আর ছবি পাই। সেগুলো ছিলো আমার হাসবেন্ড এর প্রণয়ের স্মৃতি.... 


আমার হাসবেন্ড একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কিস করছে এমনই একটি ফটো দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। ভীষণ ভাবে ভেঙে পরি।


তিন বছরের সংসার জীবনের পর যেই মানুষটার ঔরসজাত সন্তানকে সাত মাস ধরে নিজের ভেতর বহন করছি এমন একটা সময়ে তার প্রেমের ব্যপারে জানতে পেরে আমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায় যে। ইচ্ছে করছে সব ছেড়ে মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ে যাই যেদিকে দুচোখ যায়, কিন্তু অনাগত সন্তানের কথা ভেবে অদৃশ্য এক মায়ার শিকলে বাঁধা পরে গেলাম আমি। 


তাছাড়া অতি যত্নে সাজিয়ে তোলা মায়ার সংসার ছেড়ে আসাটা অতটাও সহজ নয় কোনো মেয়ের জন্য। 

 


অন্য সময় হলে এত বেশি কষ্ট লাগতোনা হয়তো কিন্তু কোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যদি তার স্বামী পরনারীতে আসক্ত এমন খবর জানতে পারে তাহলে কতটা ভাঙচুর তার হৃদয়ে হয় তা কেবল একটা নারী ই অনুধাবন করতে পারবে। 


আমি বিষন্ন মনে আনমনা হয়ে নিজের পেটে হাত বুলাতে বুলাতে কান্নায় ভেঙে পরলাম। রাফির জীবনে এমন কিছু আছে আমি কখনো কল্পনা ও করতে পারিনি।


রাতে রাফি বাসা ফিরলে আমি আর হাসোজ্জল মুখে দরজা খুলে তাকে অভ্যার্থনা জানাতে পারিনা। আমার বুকে যেন কেউ পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে, যে মানুষটা আমার সে কেবলই আমার কেন হলোনা?? এমনটা ভাবতেই আমার ভেতরটা হু হু করে ওঠে। 


আমি বিষন্ন মনে দরজা খুলে দেই, রাফি ফ্রেশ হয়ে আসলে প্রতিদিনের মতো খাবার বেড়ে দেই তাকে। মনমরা হয়ে বসে থাকি তার থেকে কিছুটা দূরে অন্য চেয়ারে। রাফি আমাকে এভাবে থাকতে দেখে বললো... 


--- কি ব্যাপার মুনতাহা? মন খারাপ কেন? খেয়েছো তুমি?? 

আমার ইচ্ছে করেনা রাফির কথার উত্তর দিতে, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে উঠে শোবার ঘরে এসে বসি। 

রাফি খাওয়া শেষ করে ঘরে এসে আমার পায়ের কাছে নিচে হাঁটু গেড়ে বসে আমার পেটের উপর কান পাতে, আহ্লাদী হয়ে আমার কাছে জানতে চায়... 


----- আমার বাবাই টা কি কষ্ট দিচ্ছে তোমাকে??

দেখিতো কি বলে আমার বাবাই সোনা.... 

আমাকে নিরব থাকতে দেখে রাফি এবার যেন বিচলিত হয়ে পরলো,উঠে আমার পাশে বসে হাত ধরে অসহায় গলায় বলে... 


--- কি হইছে পাগলি? এমন মনমরা হয়ে আছো কেন? আমি কি কোনো ভুল করেছি কিংবা কষ্ট দিয়েছি তোমাকে??


New video 


আমার গলা ধরে আসে বলতে পারিনা কিছু, তবে আমার আঁখিদ্বয় সহসা অশ্রুসজল হয়ে ওঠে যেটা আমি চাইলেও লুকাতে পারিনা রাফির দৃষ্টির আড়ালে, অগত্যা না পেরে বালিশের তলা থেকে চিরকুট আর ছবি গুলো বের করে রাফির সামনে দেই, এবার যেন রাফি থতমত খেয়ে গেলো, তার চেহারায় ফুটে উঠলো অসহায়ত্ব আর অপরাধবোধের ছাপ.. 


রাফি আবারো আমার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে আমার হাতদুটো নিজের মুঠোয় নিয়ে নিলো, হাতের উলটো পিঠে আলতো করে অধর ছোঁয়ালো, পরপরই নরম সুরে বললো.. 


--- আমায় ভুল বুঝনা লক্ষীটি, এগুলো অনেক আগের, এসএসসি ব্যসের বিদায় অনুষ্ঠানে দুষ্টুমি করে সবাই চিরকুট গুলো দিয়ে ছিলো আর, আর ওই ছবির মেয়েটার সাথে আমার কিছুদিন সম্পর্ক ছিলো, তখন টিনএজার ছিলাম, আবেগের বয়স ছিলো, মেয়েটাও আমাকে পছন্দ করতো তাই আবেগের স্রোতে ভেসে গেছিলাম, কিন্তু পরে যখন কলেজে উঠলাম এদিকে বাড়ির লোকেরা জানতে পেরে শাসন করলো,ব্যাস তারপর থেকে আর কোন যোগাযোগ হয়নি ওর সাথে....


রাফি কথার কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে হলোনা, কেন যেন ওর কথা গুলো বিশ্বাস করতেও মন চাইলো না আমার। আমি উঠে খাটের এককোনায় গিয়ে রাফি দিকে উল্টো ঘুরে শুয়ে পরলাম। রাফি কেবল বিহ্বল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো আমার দিকে।


এই ঘটনার পর থেকে খেয়াল করলাম রাফি আমার প্রতি আগের থেকে আরো এক্সট্রা কেয়ার করছে, অফিস থেকে এসে আমার সবকাজে হেল্প করে, রান্না করতে গেলে তরকারি কাটা, মশলা বাটা সবই কম বেশি করে দেয়। আমাকে বলে...


---- তোমার এখন একটু বেশি রেস্ট দরকার তাহা পাখি, তুমি ভালো থাকলে আমার বাবাই টা ও ভালো থাকবে।


আমার ডেলিভারির ডেট ঘনিয়ে আসে ফুটফুটে একটা রাজপুত্রের মা হই আমি। রাফি যেন খুশিতে আটখানা। ছেলেকে কোলে নিয়ে আহ্লাদী হয়ে বলে...


--- বলছিলাম তাহা পাখি! দেখলে তো আমার বাবাই চলে এসেছে, আমার দল কিন্তু মোটা হলো এবার।

আমি হেসে বলি...


-- মোটেও না রাফি সাহেব, দল আমার মোটা হলো, ছেলেরা বরাবরই মাকে বেশি ভালোবাসে।

রাফি গদগদ হয়ে হাসে,আলতো করে আমার নাক টিপে দেয়। আমিও হাসি।


এভাবে হেসে খেলেই কেটে যায় আমাদের দিন। 

ধীরে ধীরে ছেলেটা বড় হতে থাকে, মাতিয়ে রাখে বাড়ি। রাফি আমার প্রতি আগের মতোই কেয়ারিং,৷ ছেলেটা ঘুমালে আমাকে কোলে তুলে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়.. সময় অসময় টেনে নেয় বুকে, আমার ওষ্ঠদ্বয় ভিজিয়ে দেয় তার অধর....

তবুও মাঝে মাঝে কিছু একটা যেন আমার বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে যায়, যখনই মনে হয় রাফি আমাকে ছাড়াও অন্য কাউকে ভালোবেসেছে, ছুঁয়ে দিয়েছে। 


তার ঠোঁট স্পর্শ করেছে অন্য নারীর গাল কিংবা ঠোঁট ও তখন ই একঝাঁক অপ্রত্যাশিত ব্যাথা আমাকে আঁকড়ে ধরে, অন্তর টা পুড়ে যায়,দগ্ধ হয় হৃদয়। 


আমার জীবনের এই অপ্রত্যাশিত ব্যথাটুকু না থাকলে হয়তো শূন্যতা, হাহাকার বলে কিছুই থাকতোনা আর....


New Post